দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পচা ডিম ও নিম্নমানের বোন রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
সরকার ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা দূর করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে নির্ধারিত খাদ্যতালিকায় রয়েছে সিদ্ধ ডিম, বোন রুটি, ইউএইচটি দুধ, বিস্কুট এবং মৌসুমি ফল।
গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯ হাজার ৭২৫ জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন খাবার পেয়ে থাকে। গত ২৯ মার্চ থেকে উপজেলায় কর্মসূচিটি চালু হয়।
বুধবার দুপুরে গাংনী পৌরসভার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যে বিতরণ করা কিছু ডিম পচা ছিল এবং কিছু বোন রুটিতে ছত্রাক দেখা গেছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিক হাসান বলে, বিদ্যালয়ে দেওয়া কিছু ডিম ও রুটি খাওয়ার উপযোগী ছিল না। একই শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সাবিত হোসেন জানায়, একটি ডিমের খোসা ছাড়ানোর সময় ভেতর থেকে পানি বের হয় এবং পরে সেটি পচা বলে বুঝতে পারে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আমির হামজার অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই দুর্গন্ধযুক্ত ডিম ও নিম্নমানের রুটি দেওয়া হয়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বায়জিদও খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।
অভিভাবক সুখী আক্তার বলেন, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান নিশ্চিত করা জরুরি। নিম্নমানের খাবার তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আরেক অভিভাবক শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও যথাযথ তদারকির অভাবে কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজারুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে তার দাবি।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে গাংনী উপজেলায় ডিম, কলা ও বোন রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক এস এম জাভেদ বলেন, কোনো বিদ্যালয় থেকে পচা ডিম বা নিম্নমানের রুটির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়।
গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে খাবারের মান যাচাই করে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পচা বা নিম্নমানের খাদ্য হলে তা গ্রহণ না করারও নির্দেশনা রয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মিত্র বলেন, কয়েকটি বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে আই